অনলাইনে আয় করার প্রথম পাঠ

স্বাগতম! আলোচনার বিষয়বস্তু অনলাইনে আয়ঃ (অযথাই কথার বাতুলতার জন্য প্রথমেই আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।)


এই আর্টিকেল পড়লেই অনেক টাকা কামাইতে পারবেন! এই ধারনা থেকে সরে আসুন। এখানে আলোচনা হবে, কিভাবে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে আয় করার পথ গুলি কি কি? তার ধারনা মাত্র!


বর্তমান যুগের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টারনেট। আর এই ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে আমাদের দ্বিতীয় জগত, দ্বিতীয় পৃথিবী। কি নেই এই জগতে। বাস্তব জগতের সবকিছুই বর্তমানে ইন্টারনেটে ভার্চুয়ালী উপস্থাপিত হচ্ছে। ঘরে বসে বাজার সদাই, গবেষনা, পড়াশুনা, ডিগ্রী নেয়া, কথোপকথন, বিয়ে এক কথায় বাস্তব জগতে জীবন ধারনের জন্য যা যা প্রয়োজন এই ভার্চুয়াল জগতে আপনি সবই পাবেন। একবারও কি ভেবে দেখেছেন এইগুলি আসে কোথা থেকে? এত এত ইনফরমেশন, এত এত সেবা নিয়ে আপনার হাতের নাগলেই নয়, বরং আঙ্গুলের ডগায় এনে দিচ্ছে কে বা কারা? নিশ্চয়ই এলিয়েন নয়। এরা সবাই মানুষ। প্রশ্ন হচ্ছে এরা কি শুধু শুধূ বিনা প্রয়োজনে কিংবা বিনা কারনেই এগুলি আপনাকে আমাকে, তথা সমগ্র মানব জাতির কাছে পৌছে দিচ্ছে? উত্তর সোজা এবং সহজ ভাবে, না। কোন না কোন ভাবে সবাই আয় করে নিচ্ছে। ধরুন - গুগল, ইয়াহু, এমএসএন এবং ফেসবুক/টুইটার এর কথাই ধরা যাক। আইটি নির্ভর এমন কোন সেবা নাই যা গুগল/ইয়াহু/এমএসএন আপনাকে দিবে না, দিচ্ছে না। এবং পুরো সেবাটাই গুগল/ইয়াহু/এমএসএন আপনাকে দিবে বিনামূল্যে। গুগল/ইয়াহু/এমএসএন যেকোন সেবাই আপনি নেন না কেন? যেমন: ইন্টারনেট মানেই একটি ইমেইল একাউন্ট থাকা। গুগল / ইয়াহু / এমএসএন আপনাকে দিবে বিনামুল্যে ইমেইল একাউন্ট খোলার সুযোগ। বিনামুল্যে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় নিরাপদ ফাইল সংরক্ষনের জন্য অনলাইনে দিবে একটা বিশাল বড় স্পেস। যা হয়তো আপনি সারা জীবনেও শেষ করে উঠতে পারবেন না। ঠিক তেমনি, ফেসবুক/টুইটার সামাজিক যোগাযোগের জন্য আপনাকে বিনামূল্যে একটি একাউন্ট খুলতে দিবে। কিন্তু কেন? বিনামুল্যে কেন আপনাকে এত ছাড়? কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে? এই প্রশ্নটার উত্তর খুজেঁ পেলেই, এখানেই আপনারও আয়ের সুযোগ! লক্ষ্য করবেন, এদের সবাই তাদের সাইটে আপনার একাউন্ট এর মাধ্যমে এ্যাড প্রদর্শন করে। আবার সেটা আপনাকে বিরক্ত না করেই। আপনার প্রাইভেসি সংরক্ষিত রেখেই। তাদের আয় এখানেই। আপনার অজান্তে আপনার দৈনিন্দিন ব্যবহারিক কাজকে, যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনাকে ভিজিটর বানিয়ে আবার আপনি যার সাথে যোগাযোগ করছেন তাকে ভিজিটর বানিয়ে সে আয় করে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। ভাবেন একবার! এটা কিন্তু প্রতারন নয়, বরং আপনাকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে তারা এটা করছে এবং একাউন্ট তৈরি করার সময় আপনি তাদের বিষয়টির অনুমোদনও দিয়েছেন। আবার তারও আপনাকে আশস্ত করেছে আপনার প্রাইভেসির ব্যাপারে। সে কথাও পরে অন্য আরেকদিন।


মূলে আসি তাড়াতাড়ি!







আমি যে বিষয়ে আলোকপাত করবো সেটা আপনার আমার জন্য সময় সাপেক্ষ কিন্তু আয় সুনিশ্চিত!





এবার সোজা চলে আসি আপনার আয়ের ব্যাপারে! ভাবছেন, ফেসবুক/টুইটার/গুগল/ইয়াহু/এমএসএন তো আগেই বানায়া ফেলছে। তাছাড়া অনেক ইনভেস্ট করেছে। ভুল ধারনা। এদের ইতিহাস টুকু জানুন। (গুগল মামারে জিগান - সার্চ করুন) টুইটার এরা প্রত্যেকেই ব্যবসা শুরু করেছে গ্যারেজ থেকে। উইথআউট এ্যানি ইনভেস্টমেন্ট! বিলিভ ইট অর নট! নট এ্যা সিঙ্গেল পাই! বিশ্বাস না হলে, সার্চ করে দেখুন। শুধুমাত্র প্রজ্ঞা, নিজেদের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা, কর্মউদ্যোম এবং তাদের সেবা প্রদানের মানষিকতা।


হ্যা আপনিও পারবেন। কথা হচ্ছে এদের সবাই আইটি বা সফটওয়্যার ব্যাকগ্রাউন্ডের। যার ফলে এটার উপর নির্ভর করে, ওরা সফটওয়্যার/ওয়েবসাইট বানিয়েছে। সেবা প্রদান করেছেন। ভাবছেন, ভাইরে তাইলেতো শেষ। আমারতো আইটি ব্যাকগ্রাউন্ট না। আচ্ছা, বাদ! কিন্তু আসলেই কি তাই? আপনি কি এমন কোন ব্যাপারে জানেন যা আপনার চাইতে ভাল কেউ জানে না বা জানলেও, আপনি মনে করেন তার চাইতে বেশি ভাল করে সেবা প্রদান করতে পারবেন আপনি? কাপড় কাচার কথাই ধরুন না। আপনি হয়তো ভাবছেন, ঘরের কাজ কর্ম কিংবা লন্ড্রী আপনি ভাল পারেন। আপনার জানা আছে অনেকগুলি টিপস্ যা আপনি দৈনন্দিন কাজ করতে করতে নিজেই শিখেছেন। আপনি দেখেছেন, ঘরের ফ্রীজে লেবু কেটে রাখলে ফ্রীজ গন্ধ হয় না। কিংবা বাচ্চাদের কিভাবে ঘুম পাড়ালে বাচ্চা রাতে বিছানা নষ্ট করে না? কিংবা অফিসের বস বা কলিগদের কিভাবে ম্যানেজ করতে হয়, কাজ করে দিয়ে, ইমপ্রেস করে? কিংবা কবিতাই লিখলেন, কেউ ছাপায় না পাঠক নাই। নিজেই নিজের প্রকাশক হোন, অনলাইনে লিখে ছেড়ে দিন ব্যস হয়ে গেল। পাঠক জোগাড় করে ফেলুন। ভিজিটর আনুন, পরিচিতদের পড়তে দিন। ঠিক তাই ভাবছেন এও সম্ভব? হ্যা সম্ভব! আমি একজনকে চিনি। যিনি ফটোগ্রাফি করেন। বিভিন্ন ইভেন্টে ছবি তুুলেন। সুন্নতে খাতনা থেকে মুর্দার ছবি পর্যন্ত তোলে। উনি সেগুলি একটা অনলাইন পোর্টালে আপলোড করেন। যাদের ছবি তুলে দেন, তারা তাকে হায়ার করে নেন। ইভেন্ট প্রতি ধার্য করা টাকাও দেন। মাঝখান থেকে ছবি গুলি উনি অনলাইনে ছবি শেয়ারিং এর একটা ওয়েব সাইটে ছবিগুলি জমা দিয়ে উপরি আয় করছেন। আবার বাস্তব জগতের ক্লায়েন্টদের প্রাইভেসিও রক্ষা করে সেগুলোকে নিরাপদ একটি জায়গায় সংরক্ষন করছেন। মার্শাল আর্ট বা কারাটের একটা কমন বিষয় আছে। একটা বিষয়ের উপর তারা মারাত্মক জোর দেয় সেটা হচ্ছে, তাদের কাছে ওইটা কোন গুরুত্ব বহন করে না যেটা আপনি কিছুদিন হলো শিখেছেন এবং হাজারবার প্রেকটিস করেছেন। বরং এমন কোন মুভ যেটা আপনি সারা জীবন নিজের অজান্তে বহুবার করেছেন। নিজেই অজান্তে প্রেকটিস করেছেন। “চায়না টাউন - হিন্দি ছবিটা দেখে নিয়েন”


হ্যা, এইটাই... আপনি যা ভাল পারেন ঠিক তাই, অনলাইনেও করেন। ভাল ইংরেজী পারেন? ট্রান্সলেট করতে পারেন? তাই করেন। বিশাল একটা স্কোপ অনলাইনে আয়ের। একটা সুত্র দেই বাংলাদেশের হাই কোর্টের একটা রুল আছে, সব কিছু বাংলায় করতে হবে প্রধান ভাষা হিসেবে। কিন্তু বিষয়টা আলোর মুখ দেখেনি খোদ উচ্চ আদালতেই, কারন বাংলাদেশের আইনি বই গুলি সবই ইংরেজীতে, বাংলায় ট্রান্সলেট করা সময় সাপেক্ষ। তো বসে আছেন কেন? আপনিই শুরু করে দিন। একটি আইনি প্লাটফর্মে, বাংলায় আইন গুলি ট্রান্সলেট করে।


অনেক অনেক বিষয় আছে যা আপনি করতে পারেন। বলে রাখা ভাল ইংরেজীতে দক্ষতা আপনার অনলাইন আয়ের পথ সুগম করবে।


কথাতো অনেক কইছেন, কিন্তু আয়টা আসবে কই থেকে? মাথায় শত প্রশ্ন?


জ্বী ভাই এখানেই যাদু, অনলাইনে আয় মানে ভিজিটর লাগবেই। বেহুদাই ভিজিটর কেন আসবে আপনার তৈরি করা প্লাটফর্মে? আর ভিজিটর আসলেই, আয় হবে কোথা থেকে? দ্যা ম্যাজিক ইজ হেয়ার।


প্রথমে আপনাকে একটা ওয়েব সাইট তৈরি করতে হবে। (কিভাবে তৈরি করবেন ওয়েব সাইট? আমার এই আর্টিকেলটা পড়ুন! খুব সহজ কোন রকেট সাইন্স না।)


আপনার সাইটে আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে আর্টিকেল লিখা শুরু করুন। তৈরি হলো আপনার আয়ের একটা প্লাটফর্ম। এবার আস্তে আস্তে এ্যাড প্রদর্শন করুন। কই পাবেন বিজ্ঞাপন?


আগামীকাল পড়ুন: বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয়। নিয়মিত আমাদের আপডেট পেতে, আরো তথ্য জানতে সাবস্ক্রাইব করুন।


যেকোন ধরনের প্রশ্নের উত্তরের জন্য, সহযোগিতার জন্য আমাকে ফোন করুন +8801912477441, ইমেইল করুন: anwar@enestbd.com




Comments

Popular Posts